নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম
জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা ( সংক্ষিপ্ত )-২০২৩
২০২৩ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে । ২০২২ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে ৬২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাইলট প্রকল্পের অংশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বই বিতরণ করা হয়েছে । সেই সঙ্গে নতুন পাঠ্যক্রম অনুসারে এই সকল শিক্ষার্থী সপ্তাহে দুই দিন ছুটি পাবে । পরবর্তীতে ২০২৩ সাল থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে দুই দিন ছুটি পাবে । ২০২৩ সালে ৬ষষ্ঠ-৭ম শ্রেণিতে শিক্ষাক্রম শুরু হবে । এরপর ২০২৪ সালে ৩য় , ৪র্থ , ৮ম ও ৯ম শ্রেণিতে চালু হবে । ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে , ২০২৬ সালে একাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে চালু হবে নতুন শিক্ষাক্রম । ২০২৩ সাল থেকে শুরু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমের রূপরেখা অনুমোদন করা হয়েছে ।
জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল ভিত্তি হলো :
● মুক্তিযুদ্ধকালীন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে উল্লিখিত চেতনা
● মানবিক মর্যাদা
•সামাজিক ন্যায়বিচার
● সাম্য
নতুন শিক্ষাক্রমের অভিলক্ষ
● সকল শিক্ষার্থীর অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা বিকাশে কার্যকর ও নমনীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়ন
● শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষার্থীর বিকাশ ও উৎকর্যের সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা
• প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশের বাইরেও বহুমাত্রিক শিখনের সুযোগ সৃষ্টি ও স্বীকৃতি প্রদান
সংবেদনশীল,জবাবদিহিমূলক,একীভূত ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ
● শিক্ষাব্যবস্থার সকল পর্যায়ে দায়িত্বশীল , স্ব - প্রণোদিত , দক্ষ ও সংবেদনশীল , জবাবদিহিমূলক , একীভূত ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নতুন শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে ।
● শিক্ষার্থীর দৃষ্টিভঙ্গি , জ্ঞান , যোগ্যতা , মূল্যবোধ ও সক্ষতা বাড়াতে জাতীয় শিক্ষাক্রমের মূল ভিত্তি তৈরি করা হয়েছে । ফলাফল নির্ভর পড়াশুনা নয় বরং সত্যিকার জ্ঞান অর্জনই শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য । উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশপ্রেম , সম্প্রীতিসহ ছয় ধরনের মূল্যবোধ জাগ্রতকরণ এবং আত্মবিশ্বাসসহ তিন ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি সৃষ্টি । সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীরা দশটি গুণ অর্জন করবে । নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক - প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ ধরনের শেখার ক্ষেত্র ঠিক করা হয়েছে ।
এগুলো হলো
১.ভাষা ও যোগাযোগ
২.গণিত ও যুক্তি
৩.জীবন ও জীবিকা
৪.সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব
৫.পরিবেশ ও জলবায়ু
৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
৭.তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
৮.শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা
৯.মূল্যবোধ ও নৈতিকতা
১০.শিল্প ও সংস্কৃতি ।
প্রাক্ - প্রাথমিকের শিশুদের জন্য আলাদা বই থাকবে না , শিক্ষকরাই শেখাবেন । কেবল শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নয় , পাঠ্যক্রমে অভিভাবকদেরও অংশগ্রহণ থাকবে । নতুন শিক্ষারুমে মুখস্থনির্ভর লেখাপড়ার চর্চা থেকে বেরিয়ে আসবে শিক্ষার্থীরা । নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা যে কোনো ইস্যুতে সূক্ষ্ম চিন্তা করার শক্তি অর্জন করবে । আর অন্যের মতামত ও অবস্থানকে অনুধাবন করে প্রেক্ষাপট অনুযায়ী নিজের ভাব , মতামত , সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করতে পারার যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে । নতুন অনুমোদিত শিক্ষাক্রমের রূপরেখায় দশটি যোগ্যতা অর্জনের নতুন মাত্রা সংযোজন করা হয়েছে । শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক ও আনন্দময় শিখনের পরিবেশ সৃষ্টি করতে নতুন শিক্ষাক্রমে বিবেচ্য বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে । বিষয় এবং পাঠ্যবইয়ের বোঝা ও চাপ কমানো এবং গভীর শিখানোর বিষয় ও গুরুত্ব বিবেচনা করা হয়েছে ।
নতুন শিক্ষাক্রমের বিবেচ্য বিষয়সমূহ
১. শিক্ষার্থী - কেন্দ্রিক ও আনন্দময় শিখনের পরিবেশ সৃষ্টি
২. বিষয় এবং পাঠ্যবইয়ের বোঝা ও চাপ কমানো
৩ .শিখণ শিখানোর বিষয়ে গুরুত্ব প্রদান
8 . মুখস্ত- নির্ভরতার পরিবর্তে অভিজ্ঞতা ও কার্যক্রম ভিত্তিক শিখনে অগ্রাধিকার প্রদান
৫. খেলাধুলা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষা প্রদানের ওপর গুরুত্ব প্রদান
৬. নির্দিষ্ট দিনের পাঠ শ্রেণিকক্ষেই যেন শেষ হয় , সে ধরনের শিখন শিখানো কার্যক্রম পরিচালনায় সচেষ্ট হয়ে বাড়ির কাজ কমানো
৭. নির্দিষ্ট সময়ে অর্জিত পারদর্শিতার জন্য সনদ প্রাপ্তির প্রতি গুরুত্ব আরোপ
৮. জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত শিক্ষা ।
শিক্ষাক্রমে তথ্য মনে রাখার ক্ষমতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীর তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা এবং তথ্য ব্যবহার করে সমস্যা সমাধানের ক্ষমতার উপর ।
মূল্যায়ন প্রক্রিয়া:
মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাক্রম বিষয়ে যষ্ঠ , সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা , ইংরেজি , গণিত , বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন বছর শেষে পরীক্ষা ) ৪০ শতাংশ । বাকি বিষয়ে জীবন ও জীবিকা , তথ্য প্রযুক্তি , শারীরিক ও মানসিক শিক্ষা , স্বাস্থ্য সুরক্ষা , ধর্ম শিক্ষা , শিল্প ও সংস্কৃতি প্রভৃতিতে ।বিদ্যমান বিষয়ে চারু ও কারুকলা ) শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ । আর নবম - দশম শ্রেণির বাংলা , ইংরেজি , গণিত , বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৫০ শতাংশ ও সামষ্টিক মূল্যায়ন ( বছর শেষে পরীক্ষা ) ৫০ শতাংশ । নবম - দশম শ্রেণির বাকি বিষয়গুলোর শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে শতভাগ । ফলে এই সব শ্রেণিতে ৫ টি বিষয়ে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা হবে এবং বাকি বিষয়ের মূল্যায়ন করবে শিক্ষকরা ।
নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক - প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিদ্যমান পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক মূল্যায়ন ( শিখনকালীন ) বেশি হবে । এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না । শতভাগ মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে বিভিন্ন রকমের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে । পরবর্তী শ্রেণিগুলোর মূল্যায়ন হবে পরীক্ষা ও ধারাবাহিক শিখন কার্যক্রমের মাধ্যমে । নতুন শিক্ষাক্রমে এখনকার মতো আর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে ব না , শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে হবে এসএসসি পরীক্ষা । একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুইটি পাবলিক পরীক্ষা হবে । প্রতি বর্ষ শেষে বোর্ডের অধীনে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে । এরপর দুই পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয়ে এইচএসসির চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে । ২০২৩ সাল থেকে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না । সাময়িক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হবে । এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে এখন থেকে শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন সিলেবাসে পড়বে । শিক্ষার্থী বিজ্ঞান , মানবিক । বাণিজ্য বিভাগে পড়বে , সেই বিভাজন হবে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে । নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী , ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত যে ১০ বিষয়ে পড়ানো হবে , সেগুলো হলো- বাংলা , ইংরেজি , গণিত , বিজ্ঞান , তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি , সামাজিক বিজ্ঞান , জীবন ও জীবিকা , ধর্ম , স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি ।
• মূল্যায়ন কেবল শিক্ষার্থীর শিখান মূল্যায়নের মধ্যে সীমাবন্ধ না রেখে পুরো শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা,মূল্যায়ন শিখন পরিবেশের মূল্যায়ন ও সে সঙ্গে শিক্ষার্থীর শিখনের মূল্যায়নের উপর ।
. শিখন মূল্যায়নের ভিত্তি হবে যোগ্যতা ।
• শ্ব - মূল্যায়ন সতীর্থ মূল্যায়নের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে ।
● মুখ - নির্ভর সামজিক মূল্যায়ন হ্রাস ।
● শিখন অগ্রগতি মূল্যায়নের ধারাবাহিক রেকর্ড সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা ।
শিখন শিখানো কৌশল ।
• অনলাইন ভিত্তিক শিখনের সংমিশ্রণ
• কারিগরি ও নৈতিক শিক্ষার উপর গুরুত্ব
• হাতে কলমে শিখন প্রকল্প ও সমস্যা ভিত্তিক শিখন , সহযোগিতামূলক শিখন , অনুসন্ধানমূলক শিখন , স্ব প্রণোদিত মিশনের সংমিশ্রণ
• শিখনের ক্ষেত্রে শিক্ষকের ভূমিকা সহায়তাকারী এবং শিক্ষার্থীরা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী
.শিখন পরিবেশ একীভূত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক
. শিখন পরিবেশ শিক্ষার্থী - কেন্দ্রিক , গণতান্ত্রিক , সহযোগিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক।
যেসব ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন :
১. জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন ।
২. জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী ২০২৩ সাল থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষা থাকবে না ।
৩. এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়া হবে শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে । ৪. একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া হবে ।
৫. বোর্ডের অধীনে নেওয়া হবে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির দুই পরীক্ষা । এই দুই পরীক্ষার ফলের সমন্বয়ে এইচএসসির ফল চূড়ান্ত করে প্রকাশ করা হবে ।
৬ . একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ।
৭. ২০২৩ সাল থেকে শিক্ষার্থীরা দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন সিলেবাসে পড়বে । থাকবে না বিজ্ঞান , মানবিক বা বাণিজ্য বিভাগ বিভাজন
৮ . নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার ক্ষেত্র হচ্ছে প্রাক - প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ভাষা ও যোগাযোগ , গণিত ও যুক্তি , জীবন ও জীবিকা , সমাজ ও বিশ্ব মাগরিকত্ব , পরিবেশ ও জলবায়ু , বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি , তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি , শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা , মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি ।
৯. প্রাক - প্রাথমিকে শিশুদের জন্য আলাদা বই থাকবে না , শিক্ষকরাই শেখাবেন ।
১০. প্রাথমিকে পড়তে হবে আটটি বই ।
নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষকের ভূমিকা :
নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষকরা কীভাবে পড়াবে , সেজন্য শিক্ষক গাইড থাকবে । সেটি অনুসরণ করে শিক্ষকগণ শিখন শিখানো কার্যক্রম পরিচালনা করবেন । শিক্ষকগণ শিখন চলাকালীন শিক্ষার্থীকে ধারাবাহিক মূল্যায়ন করবেন । প্রতিটি বিষয়ে সামষ্টিক মূল্যায়ন এবং পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়নের স্বাধীনতা থাকবে শিক্ষকদের নতুন কারিকুলামে কোনও শিক্ষার্থীর না পারার কথা নয় । যত্নের সঙ্গে টিচার গাইড তৈরি হচ্ছে । তারা টিচার গাইড অনুসরণ করে পড়াবেন । আসলে অনেক বেশি পড়ানোর চেয়ে শিক্ষকরা অনেক বেশি গাইড করবেন । শিক্ষার্থীরা নিজেরা নিজেরাই তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারবে । সেভাবেই বই লেখা হবে ।
শিক্ষানীতি আইন :
• ৫৮ টি বিধান রেখে নতুন শিক্ষা আইন -২০২২ এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে । শিক্ষানীতির আইনের ১৬ নম্বর ধারায় নোট - গাইড প্রকাশ ও বাজারজাত করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে । তবে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে সহায়ক ও অনুশীনমূলক বই মুদ্রণ , বাঁধাই , প্রকাশ ও বাজারজাত করা যাবে ।
* প্রস্তাবিত শিক্ষা আইনে চার স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে ।
• ১ ম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক
.৬ষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মাধ্যমিক
• একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত উচ্চ মাধ্যমিক এবং
● বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে উচ্চ শিক্ষা স্তর ।
এছাড়া আলাদাভাবে প্রাক - প্রাথমিক স্তরের কথাও আইনে বলা হয়েছে । প্রাথমিক পর্যায়ের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে থাকতে হবে প্রাক - প্রাথমিক স্তর
প্রশ্নের ধরন:-
পরীক্ষার প্রশ্নের কাঠামো এখনকার মতে হুবহু থাকবে না । প্রশ্ন প্রণয়নে শিক্ষকদের স্বাধীনতা থাকবে । প্রশ্নগুলো হবে মিশ্র ধরনের । এখন মাধ্যমিক স্তরে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন হয় দুই ধরনের । একটি অংশে থাকে সৃজনশীল । সেখানে একটি প্রশ্নকে চার ভাগে ভাগ করে উত্তর জানতে চাওয়া হয় । আর একটি অংশে থাকে বহুনির্বাচনি ।
নতুন শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কাঠামোগত বড় পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রশ্নপত্রের ধরনও বদলে যাবে । পরীক্ষার প্রশ্নগুলো সৃজনশীল হলেও তার কাঠামো এখনকার মতো হুবহু থাকবে না । নতুন শিক্ষাক্রমের একটি অংশের মূল্যায়ন হবে সারা বছরের ধারাবাহিক শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে , আরেকটি অংশের পরীক্ষার মাধ্যমে । এতে প্রশ্নের ধরন নির্ভর করবে বিষয়ের প্রকৃতি , যোগ্যতা অর্জনের চাহিদা এবং অভিজ্ঞতার ধরনের উপর । অন্যগুলো হবে সমস্যা সমাধান ভিত্তিক । দুই ক্ষেত্রেই প্রশ্ন প্রণয়নে শিক্ষকদের স্বাধীনতা থাকবে । অর্থাৎ উত্তর জানা প্রশ্নগুলো হবে মিশ্র ধরনের । এই শিক্ষাক্রমের একটি বড় দিক হলো পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা কমানো এবং শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়ন বাড়ানো ।
পরিশেষে বলা যায় , বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশ হতে যাচ্ছে । ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক ও তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক । বর্তমান শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীগণ মানবিক মানুষ হয়ে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়ে বিশ্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা অর্জন করবে । ২০২৩ সালের সমন্বিত শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের সার্বিক সক্ষমতা অর্জনে সহায়ক হবে- এই প্রত্যাশা করছি ।
সমন্বিত এই নতুন প্রবর্তিত শিক্ষাক্রমে শিক্ষা আইনে
'শিক্ষকদের আর্থিক ও সামাজিক মর্যাদা রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠা হলেই কেবল ইতিবাচক পরিবর্তন প্রত্যাশা করা যায় ' তাই একজন বাস্তব অভিজ্ঞতালব্দ প্রবীণ প্রধান
শিক্ষক মন্তব্য করেন যে, "আমি জানি না,
কেননা আমরা কি কখনো বৃটিশ আমলের সৃষ্ট আমলাতান্ত্রিকতার পরিবেষ্টিনি থেকে এ জাতিকে মুক্ত করে শিক্ষা-ভিত্তিক দেশ উপহার দিতে পারবো কিনা? "
তারপরও আমার বিশ্বাস আমাদের প্রিয় রক্তেগড়া স্বদেশ এগিয়ে যাবে স্বমহিমায়,আমাদের সবার আন্তরিক প্রচেষ্টায়।