ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোন সাবজেক্ট ভালো
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোন সাবজেক্ট ভালো ? কোন বিষয় নিয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করলে কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবে। এবং কোন বিষয় নিয়ে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে কর্মের সুযোগ পেতে পারেন। বর্তমানে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এ ২০ টির ও বেশি সাবজেক্ট আছে।
বর্তমান সবগুলো বিষয়ের গুরুত্ব সমানভাবে নেই। যেসব বিষয়গুলো চাহিদা কর্মক্ষেত্রে বেশি সেসব বিষয়গুলোতে পড়তে হবে।
ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং এর বিভিন্ন বিষয়ে পড়ানো হয় যেমন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, পাওয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং ইত্যাদি ডিপার্টমেন্টে ডিপ্লোমা করার সুযোগ আছে।
আমি বলব সব থেকে বেশি সুযোগ বা বেশি চাকরি সুযোগ পেতে পারেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এ বিষয় থেকে পাস করে।
ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়াররা কর্মক্ষেত্রে বিভিন্ন দিকে মুভ করতে পারেন যেমন টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এ বা পাওয়ার সেক্টরগুলোতে পাওয়ার জেনারেশন বা ডিস্ট্রিবিউশন বা পাওয়ার ইকুইপমেন্ট প্রোডাকশন বা ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিগুলোতে বিভিন্ন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর চাহিদা বেশি। তারপর বলব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কথা। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এবং দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার করা এবং বিভিন্ন অবকাঠামো তৈরি করার জন্য প্রতি বছর বহু সিভিল ইঞ্জিনিয়ার প্রয়োজন হয়।বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য কয়েকটি ভালো বিষয় হলো:
1. সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং: বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তাঘাট, ব্রিজ, বিল্ডিং ইত্যাদি নির্মাণে দক্ষতা অর্জন করতে এই ডিপ্লোমা অনেক উপকারী।
2. ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: বিদ্যুৎ ও ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই খাতে কাজের চাহিদা সবসময়ই থাকে।
3. মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং: উৎপাদন ও যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং খুবই কার্যকর।
4. কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং: বর্তমান যুগে প্রযুক্তি ও আইটি সেক্টরের চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের গুরুত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
5. আর্কিটেকচার: ডিজাইন ও নির্মাণ কাজের ক্ষেত্রে আর্কিটেকচারের চাহিদা অনেক বেশি।
6. এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং: বাংলাদেশ একটি কৃষিপ্রধান দেশ, তাই কৃষি খাতে উন্নয়ন ও প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির জন্য এগ্রিকালচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে আপনি যে বিষয়টি পছন্দ করেন এবং যেখানে চাকরির সুযোগ বেশি রয়েছে, সেটি নির্বাচন করা সবচেয়ে ভালো হবে।
একজন ডিগ্রী ইঞ্জিনিয়ার এর পাশাপাশি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়াররা কাজ করে থাকেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এর কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি, যেমন পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, গণপূর্ত এলজিইডি,সওজ এবং শিক্ষকতা ছাড়াও বহুবিধ কাজের সুযোগ রয়েছে।
এছাড়াও ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর কেউ যদি উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে চান তাহলে ঢাকার ডুয়েটে রয়েছে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ। এছাড়াও দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ।বর্তমান ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ডিপ্লোমা কমপ্লিট করার পর বিএসসি এমএসসি এবং পিএইচডি ডিগ্রিও সম্পন্ন করছেন।