একটি ব্যাংক কিভাবে নগদ টাকার সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে

একটি ব্যাংক কিভাবে নগদ টাকার সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে - বিস্তারিত বিশ্লেষণ:



নগদ টাকার সংকট (লিকুইডিটি ক্রাইসিস) হলো এমন একটি অবস্থা যখন একটি ব্যাংক তার দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত নগদ অর্থ পায় না। সংকট নিরসনের জন্য একটি ব্যাংক কৌশলগত পদক্ষেপ নিতে পারে।




---


১. তারল্য ব্যবস্থাপনা জোরদার করা:


ক) নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ:


দৈনিক, সাপ্তাহিক এবং মাসিক নগদ প্রবাহ বিশ্লেষণ করা।


শাখাগুলোর নগদ চাহিদার পূর্বাভাস তৈরি এবং সঠিক বরাদ্দ নিশ্চিত করা।



খ) আন্তঃব্যাংক ঋণ গ্রহণ:


কল মানি মার্কেট থেকে স্বল্প মেয়াদি ঋণ গ্রহণ।


সার্টিফিকেট অব ডিপোজিট (CDs) ইস্যু করে নগদ সংগ্রহ।




---


২. বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা:


ক) রেপো লোন:


বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছ থেকে রেপো রেট-এ স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়া।


সরকারি সিকিউরিটি বন্ধক রেখে অর্থ সংগ্রহ।



খ) বিশেষ ঋণ সুবিধা:


বিশেষ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ইমার্জেন্সি ফান্ডিং গ্রহণ।




---


৩. আমানত সংগ্রহ বৃদ্ধি:


ক) উচ্চ সুদের হার প্রদান:


ফিক্সড ডিপোজিট স্কিম এবং সঞ্চয়ী হিসাব-এর জন্য উচ্চ সুদের হার অফার করা।



খ) প্রচারমূলক কার্যক্রম:


বিভিন্ন প্রচারমূলক অফার চালু করে গ্রাহকদের আকৃষ্ট করা।


নতুন সঞ্চয় প্রকল্প চালু এবং পুরস্কার স্কিম প্রচলন।




---


৪. ব্যয় কমানো:


ক) পরিচালন ব্যয় হ্রাস:


অব্যবহৃত শাখা এবং অতিরিক্ত প্রশাসনিক ব্যয় কমানো।


কর্মীদের কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন এবং অপ্রয়োজনীয় পদ সরিয়ে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ।



খ) ডিজিটাল সেবা বাড়ানো:


ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং এবং এটিএম পরিষেবা বাড়িয়ে নগদ লেনদেনের চাপ কমানো।




---


৫. ঋণ আদায় বাড়ানো:


ক) মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ আদায়:


ঋণ পুনঃতফসিল এবং পুনঃগঠন পরিকল্পনা প্রণয়ন।


বিশেষ ঋণ আদায় কমিটি গঠন এবং গ্রাহকদের সচেতন করা।



খ) খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা:


আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং গ্রাহকদের ঋণ পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া।




---


৬. সম্পদ বিক্রি করা:


ক) স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ বিক্রি:


ব্যাংকের অব্যবহৃত স্থাবর (সম্পত্তি, ভবন) এবং অস্থাবর (যানবাহন, যন্ত্রপাতি) সম্পদ বিক্রি।



খ) বিনিয়োগ নগদে রূপান্তর:


ইনভেস্টমেন্ট সিকিউরিটি বিক্রি করে দ্রুত নগদ অর্থ সংগ্রহ।




---


৭. সঞ্চয়পত্র বিক্রয় এবং সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ:


ক) সঞ্চয়পত্র বিক্রয়:


বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র স্কিম চালু করে আমানত সংগ্রহ।


গ্রাহকদের জন্য লভ্যাংশ প্রদানের নিশ্চয়তা দেওয়া।



খ) সরকারি বন্ড ক্রয় এবং বিক্রয়:


ট্রেজারি বিল এবং বন্ড মার্কেট-এ বিনিয়োগ করে নগদ সংগ্রহ।


গভর্নমেন্ট সিকিউরিটিজ বিক্রি করে তাৎক্ষণিক নগদ অর্জন।




---


৮. শেয়ার ইস্যু ও মূলধন সংগ্রহ:


অতিরিক্ত শেয়ার ইস্যু এবং অধিকার ইস্যু (Rights Issue) এর মাধ্যমে শেয়ারহোল্ডারদের কাছ থেকে নগদ সংগ্রহ।


ব্যাংকের IPO বা সেকেন্ডারি মার্কেট-এ শেয়ার বিক্রি।




---


৯. কর্পোরেট অংশীদারিত্ব ও মেজর ডিপোজিটরদের অনুরোধ:


কর্পোরেট ক্লায়েন্ট এবং বড় ডিপোজিটরদের স্বল্প মেয়াদী আমানত বাড়াতে উৎসাহিত করা।




---


১০. ব্যবসায়িক মডেল পুনর্গঠন:


ব্যর্থ ব্যবসা মডেল পুনর্বিবেচনা এবং কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন।


ক্রেডিট রিস্ক ম্যানেজমেন্ট শক্তিশালী করে ঝুঁকি হ্রাস।



---


উপরোক্ত কৌশলগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করলে একটি ব্যাংক তার নগদ টাকার সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সক্ষম হবে।