উদ্ভিদবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার
বোটানিতে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার
বোটানিতে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় পথ রয়েছে। আপনি একাডেমিক, গবেষণা, সরকারি-বেসরকারি চাকরি কিংবা উদ্যোক্তা হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য অপশন
১. মাস্টার্স (M.Sc) ও বিশেষায়ন
বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বোটানির উপর মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে। কিছু জনপ্রিয় বিশেষায়িত বিষয় হলো—
- Plant Taxonomy & Biodiversity
- Plant Pathology
- Microbiology & Biotechnology
- Environmental Botany & Climate Change
- Agronomy & Horticulture
কোথায় মাস্টার্স করা যায়?
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
- রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
- শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
- বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (BAU)
- নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (NSTU)
২. পিএইচডি (Ph.D) ও গবেষণা
যদি গবেষণায় আগ্রহ থাকে, তবে মাস্টার্সের পর পিএইচডি করতে পারেন। বাংলাদেশে বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার সুযোগ আছে, যেমন—
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI)
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)
- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI)
- বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI)
- বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (BCSIR)
- জাতীয় উদ্ভিদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (NIBR)
এছাড়া, বিদেশে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া) ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের মাধ্যমে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে (যেমন: Fulbright, DAAD, Commonwealth, Erasmus Mundus, Australia Awards)।
চাকরির সম্ভাবনা ও ক্ষেত্র
১. সরকারি চাকরি
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে বোটানির ভালো চাহিদা রয়েছে। আপনি বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় গবেষক বা অফিসার হিসেবে কাজ করতে পারেন।
- বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (BARI) – উদ্ভিদ বিজ্ঞানী, গবেষক
- বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট (BFRI) – পরিবেশ ও বনসংরক্ষণ কর্মকর্তা
- বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) – ধান ও ফসল উন্নয়ন গবেষক
- বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) – কৃষি ও বীজ উন্নয়ন কর্মকর্তা
- পরিবেশ অধিদপ্তর (DOE) – পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ
- বাংলাদেশ বন বিভাগ – ফরেস্ট রেঞ্জার, পরিবেশবিদ
- বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) – কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা
- বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ (BFSA) – খাদ্য বিশ্লেষক
- বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI) – ফার্মাসিউটিক্যাল ও উদ্ভিদভিত্তিক গবেষণা
সরকারি চাকরির জন্য যেসব পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়:
- বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (BCS) পরীক্ষা – বিশেষ করে কৃষি ক্যাডার।
- সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের চাকরি – BCSIR, BARI, BRRI, BFRI
- পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষা
- বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (BADC) পরীক্ষায় অংশগ্রহণ
২. বেসরকারি চাকরি
বেসরকারি খাতে বোটানি পড়ুয়াদের জন্য বেশ কয়েকটি সম্ভাবনাময় সেক্টর রয়েছে—
(১) বায়োটেক ও ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানি
- স্কয়ার ফার্মা, ইনসেপটা, বেক্সিমকো, রেনেটা, এসেনসিয়াল ড্রাগস—এই কোম্পানিগুলোতে প্ল্যান্ট এক্সট্রাকশন ও হার্বাল প্রোডাক্টস নিয়ে গবেষণা করা হয়।
(২) কৃষি ও খাদ্য শিল্প
- ACI Agribusiness, BRAC Seed & Agro Enterprise, Pran-RFL, Akij Agro
- কৃষিজাত পণ্য উন্নয়ন ও গবেষণা, অর্গানিক ফার্মিং, বীজ উৎপাদন, কীটনাশক ও সার উন্নয়ন
(৩) পরিবেশ ও বন সংরক্ষণ সংস্থা
- বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল নেটওয়ার্ক (BEN)
- বিভিন্ন NGO যেমন BRAC, ASA, Proshika, iDE Bangladesh
(৪) গবেষণা ও শিক্ষাক্ষেত্র
- বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা (M.Sc-এর পর UGC-NTRCA পরীক্ষা দিয়ে মাধ্যমিক/উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হওয়া যায়)
- গবেষণা প্রতিষ্ঠান যেমন ICDDR,B, BCSIR, CEGIS
৩. স্টার্টআপ ও এন্টারপ্রেনারশিপ
বোটানির জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নিজস্ব উদ্যোগে কিছু করা যেতে পারে।
- অর্গানিক ফার্মিং ও গ্রিনহাউস প্রযুক্তি – কীটনাশকমুক্ত সবজি ও ফল উৎপাদন
- হার্বাল ও আয়ুর্বেদিক প্রোডাক্টস – ওষুধি গাছ চাষ ও প্রসেসিং
- ফ্লোরিকালচার ও নার্সারি ব্যবসা – উন্নত জাতের ফুল ও গাছের চারা উৎপাদন
- টিস্যু কালচার ল্যাব – উন্নতমানের গাছের চারা উৎপাদন
বোটানিতে গ্রাজুয়েশন করার পর উচ্চশিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশে প্রচুর সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি গবেষণা ও একাডেমিক ক্যারিয়ার চান, তাহলে মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে পারেন। সরকারি চাকরি চাইলে BCS, BADC, BARI, DOE, DAE-তে পরীক্ষা দিতে পারেন।
বেসরকারি চাকরির জন্য ফার্মাসিউটিক্যাল, কৃষি, খাদ্য ও পরিবেশ সংস্থাগুলোতে কাজের সুযোগ আছে।